মিনু
বন্যাসারা সকাল মিসেস সালমারবাসায় কাজ করে, তাকেখালম্মা বলে ডাকে ।সে মিসেসে সালমার যাবতীয়কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করে। দিবা শাখারএকটি স্কুলেও সে পড়ে ।পড়ালেখায় সে পিছিয়ে নেই। শুধু প্রকৃতির কোনো কিছুর সক্সেগতার সখ্য গড়ে ওঠেনি, সে সময়ই বাতার কোথায় ? তার নিজের জীবনআর কাজ নিয়েই সেব্যস্ত। প্রকৃতিতেনয়, নিজের কাজেই সেশান্তি খুজে পায়। বন্যাতার কাজ দিয়ে, কথাদিয়ে মিসেস সালমাকেএমন আপন করে নিয়েছেযে, মিসেসসালমাও বন্যাকে পরিবারের অন্য সদস্যের মতোইমনে করে।
ক. মিনু কার বাড়িতেথাকত?
খ, ষষ্ঠ ইনিদ্রয় বলতেকী বোঝানো হয়েছে ?
গ, অবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকেরবন্যা ও মিনুর মধ্যেযে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তাব্যাখ্যা কর।
ঘ, বন্যার শিক্ষা ছিলপ্রতিষ্ঠানিক , আর প্রকৃতি হচ্ছেমিনুর পাঠশালা বিশ্লেষণ কর।
প্রশ্নেরউত্তরঃ
ক. মিনু তার দূরসম্পর্কেরএক পিসি অর্থাৎ, খালারবাড়িতে থাকত ।
খ. ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় বলতেচোখ, নাক, কান, জিহ্বা, ত্বক এবং ্এর বাইরেরবিশেষ অঙ্গকে ষষ্ঠইন্দ্রীয় বলে। ষষ্ঠইন্দ্রীয় সম্পর্কে লেখক, মিনু গল্পেরচরিত্র মিনু বোবা কালা, ঠোট নাড়া আর মুখেরভাব থেকে অন্যরা কিবলছে সে বুঝতে পারে। এমন একটিবিশেষ গুণ বা ক্ষমতাযার সাহায্যে এমন সব জিনিস মনেসৃষ্টি করা হয় যারমানে হয় না ।
গ. উদ্দীপকের বন্যা ও গল্পেরমিনুর মধ্যে অবস্থাগত কিছুবৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। মিনুতার দূরসম্পর্কের এক খালার বাসায় আশ্রিতএবং সেখানে সেঘরকন্যার কাজ করে।আর বন্যা মিসেস সালমারবাসায় সকালে কাজ করেএবং মিসেসে সালমাকে খালাবলে সম্বোধন করে। মিনুপড়াশুনা করে না।কিন্তু বন্যা একটি স্কুলেপড়াশুনা করে। মিনুবোবা এবং সামান্য কালাওকিন্তু বন্যা কথা বলতেপারে। কাজেঅবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকের বন্যাওগল্পের মিনুর মধ্যে যেবেসাদৃশ্য রয়েছে তা স্পষ্টহয়ে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকের বন্যা তার কাজের পাশাপাশিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেছে। কিন্তুমিনুর সে অবস্থা হয়নি। যে প্রকৃতিথেকেই শিক্ষা লাভ করেছেবন্যা শুধু কাজ করেনয়। ভালোব্যবহার দিয়েও সবাইকে জয়করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। প্রাতিষ্ঠানিকশিক্ষার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যার জন্যে কাজকর্মের ফাঁকে ফাঁকেনিজেকে গড়ার জন্যও সেসচেষ্ট থাকে। অন্যদিকেগল্পের মিনু শান্ত প্রকৃতিরমেয় । কখনোতার পিসিকে খুশি করারজন্য এমন কিছু করেছ্েতা ফুটে ওঠে নি। তবেকর্তব্য কাজে কখনো অবহেলাকরে নি। সকালথেকে সন্ধ্যাা অবধি হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে প্রকৃতির মতোপ্রতিদান দিয়েছে উপরিউক্ত আলোচনার আলোকেবলতে পারি প্রশ্নোক্ত উক্তিটিযথার্থ ।
প্রশ্ন: ২
পল্লিপ্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠাবিধবা মায়ের ডানপিটে সন্তানফটিক। নতুনেরআকর্ষণে সে চলে আসেকলকাতার মামার বাড়িতে।কিন্তু মামিতাকে মোটেও আপন কের নিতে পারে নি. বরং অনাবশ্রক ঝামেলা মনে করেতাকে ¯েœহ থেকেবঞ্চিত করে। একদিকেপ্রকৃতির টান ও মায়েরভালোবাসা পাওয়ার আকাক্সক্ষা অন্যদিকেমামির অবহেলা, অনাদর, তিরস্কার তারমনেকে পীড়িত করে।ফলে এ পৃথিবী থেকেতাকে অসময়ে বিদায় নিতেহয়।
ক. মিনুর বয়স কত?
খ. শুৃকতারাকে মিনু স্ ুমনেকরে কেন? ব্যাখা কর।
গ. উদ্দীপকের ফটিক ও মিনুগল্পের মিনুর মধ্যে বৈসাদৃশ্যব্যাখ্যা কর ।
ঘ. ফটিক ও মিনুরপরিণতি ভিন্ন হলেও উভয়েরবেড়ে ওঠার পরিবেশ ছিলপ্রতিকূল । উক্তিটিরযথার্থতা যাচাই কর।
প্রশ্নেরউত্তর:
ক. মিনুর বয়স দশবছর।
খ. নিজের প্রতিকুলতার সাথেতুলনা করে মিনু শুকতারকেনিজের সই মনে করে। আমাদেরজগৎ সংসার যাদের সাথেমিল থাকে তাকেই আমরাবন্ধু করি। আচার, আচরণ ও চরিত্রের মিলইএকে অপরের আপন করে। তেমনিমিনুর কাছে ও শুকতারাকেতার জীবনের সাথে মিলিয়ে সইমনে করেছে।
গ. উদ্দীপকের ফটিক ও বনফুলেরমিনু গল্পের মিনুর মধ্যেবেশকিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ফটিকছিল ডানপিটে আর চঞ্চল কিন্তুমিনু ছিল নীরবশান্তশিষ্ট একটি মেয়ে মিনুবাব মা মরা অনাথ, ফটিক অনাথ কিন্তু তারমা আছে। মিনুপিসির বাসায় আশ্রিত।অপরদিকে ফটিক মামার বাসায়পড়াশুনার জন্য গিয়েছিল ।মিনু পিসির বাসায় ।গৃহপরিচারিকার কাজ করতে কিন্তুফটিকের ক্ষেত্রে তা নয়।
ঘ. সমস্ত গ্রাম চুষে বেড়ানো দুরন্ত ফটিক যখনকলকাতায় এসে বাঁধা পড়েছ্ে। আরমিনু আত্মীয়ের আশ্রয় নিয়েছে। পিতৃমাতৃহীনমিনু নিরুপায় হয়ে দুর সম্পর্কেরপিসির সংসারে আশ্রয় নিয়েছে। এসুযোগ কাজে লাগিয়ে পিসিএ্ দশ বছরের শিশু মেয়েটিকেদিয়ে সংসারে সব কাজকরিয়ে নেয়। তাবলে সেজীবনকে তুষ্ট মনে করেনি, সেভাবে একদিন তারবাবা ফিরে আসবে ।সংসারে অমানুষিক পরিশ্রম , আদর যতেœরপ্রত্যাশী, পিতার সাথে সাক্ষাতেরআকাঙক্ষা মিনুকে ধীরে ধীরে তাকেকরুণ পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়েযায়। ফটিকযেভাবে অনাদর, অবহেলা গঞ্জনা সহ্য করেকরুণ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। এখানেফটিক আরমিনুর করুণ পরিণতির ক্ষেত্রভিন্ন হলেও দুজন্ েতাদেরইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রায় বন্ধিজীবন অতিবাহিত করে । এদিক থেকে উক্তিটিযথার্থ ।
প্রশ্ন৩ঃ
ছোট্রমেয়ে নিশি । তারমা তাকে একটি বাসায় রেখে এসেছে। সেখানেসে গৃহপরিচারিকার কাজ করে ।তার বাবা তাকে এবংতার মাকে ছেড়ে অন্যত্রচলে গেছে। বাসার দুজন সদস্যনিশিকে তালাবদ্ধ করে রেখে কাজেচলে যায়। সারাদিন বন্দী জীবন কাটায় আরমনে মনে ভাবে তাঁর বাবাএকদিন এসে এখান থেকেতাকে নিয়ে যাবে।
(ক) মিনুর পিসে মশায়েরনাম কী ?
(খ) মিনুকে খুব ভোরেঘুম থেকে উঠতে হতোকেন ?
(গ) উদ্দীপকের নিশি আর মিনুগল্পের মিনুর মধ্যে তুলনাকর।
(ঘ) মিনুর বাবার প্রতিভাবনা আর নিশির বাবারপ্রতি ভাবনা একরূপ নয়Ñ কথাটির যৌক্তিকতা বিশ্লেণষণ কর।
প্রশ্নেরউত্তরঃ
ক. মিনুর পিসে মশায়েরনাম যোগেন বসাক।
খ. মিনুকে খুব ভোরেকয়লা ভাঙতে হবে ।বাসনকোসন পরিষ্কার করতে হবে ।উনুন জ্বালাতে হবে । এগুলোসেরে তাঁকে পিসেমশায় ও পিসিরে জন্যরান্না করতে হবে ।মূলত মিনু সকাল বেলাকাজকর্ম করার জন্য খুবভোরে ঘুম থেকে উঠতেহতো।
গ. উদ্দীপকের নিশি আর মিনুগল্পের মিনুর মধ্যে বেশকিছুমিল ও অমিল দেখাযায়। মিনুএবং নিশির পরিচয় হলোদুজনেই গৃহপরিচারিকা। মিনুরপিতামাতা ক্ েন্ ে। মিনঅনাথা । সেদুর সম্পর্কের পিসির বাড়িতে আশ্রিত। সেখানে সেএকজন গৃহপরিচারিকার মতো কাজ করে। অবস্থারপরিপ্রেক্ষিতে তাকেও গৃহপরিচারিকর কাজেযোগ দিতে হয়েছে ।মিনু তা পিসির ২৪ঘণ্টার কাজের মেয়ে ।কিন্তু মিনুকে নিশির মতোবন্দি অবস্থায়থাকতে হতো না।
সুতরাংদেখা যায়, নিশির চেয়েগল্পের মিনুর ভাবনা ব্যতিক্রম তাদেরভাগ্যে পার্থক্যেইঙ্গত দেয়।
ঘ. পরিস্থিতিই মিনু গল্পের মিনুরজীবনে অনেক দুঃখ এনেদিয়েছে। পক্ষান্তরেনিশির মাÑ বাবাই তারমনে দুঃখ দিয়েছে।একটি গৃহপরিচারিকার জীবনকাহিনি চমঃকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেনপ্রখ্যাত লেখক বনফুল তারমিনু গল্পে ।মিনুকে তার পিসি বলেছিল, তার বাব বিদেশ গেছে। একদিনতাকে এসে এখান থেকেনিয়ে যাবে । প্রকৃতপক্ষেতার বাব মারা গিয়েছিল। মিনু তারপিসির মনে পিসিরমন ভুলানো কথায় ্বিশ্ব্াস করেছিল । তারবিশ্বাসজন্মে œছিল কাঁঠালগাছের মরাডালটায় যেদিন হলুদ পাখিবসবে সেদিন তার বাবাফিরে আসবে । কিন্তুতার সে আশা কোনোদিনপুর্ণ হয়নি। অপরদিকেনিশির বাব বেঁচে আছেকিন্তু তাঁকে ও তারমাকে ছেড়ে অন্য সংসারবেঁধেছে। সেক্ষেত্রেবাবাকে নিয়ে নিয়ে নিশিযা ভাবত তাও হয়নি নিশির ভাবনা ওমিনুর ভাবনা এক্ষেত্রে একরুপনয়। সুতরাং উক্তিটি যথার্থ।
প্রশ্ন:-৩:
দরিদ্রনা হলে কেউ কারওসন্তানকে অন্যের বাড়িতে ভৃত্যেরকাজ করতে দেয় না। কিন্তু অবস্থারচাপে পড়ে অনেকেই সেকাজটি করতে হয় ।আর যখনই এ কাজকরতে যায় তখনই তারসঙ্গে অমানুষের ন্যায় ব্যবহার করাহয় । ক্ষেত্রবিশেষেশারীরিক ও মানসিক অত্যাচারওকরা হয় । এমনকিতাদেরকে করুণ পরিণতির দিকেঠেলে দেওয়া হয় ।
(ক) মিনু কয়টার সময়ঘুম থেকে জেগে উঠত?
(খ) মিনু কাঁঠাল গাছেরসরু ডালটার দিকে সাগ্রহেচেয়ে থাকত কেন?
(গ) উদ্দীপকটির বক্তব্য মিনু গল্পের মিনুচরিত্রটির ক্ষেত্রে কতটুকু প্রযোজ্য মন্তব্যকর।
(ঘ)মিনুকে তার আশ্রয়দাতারাইকরুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছেÑ উক্তিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
প্রশ্নেরউত্তর :
(ক) মিনু চারটার সময়ঘুম থেকে জেগে উঠত।
(খ) মিনু কাঁঠাল গাছেরসরু ডালটার দিকে সাগ্রহেচেয়ে থাকত কারণ সেতার পিসিমার কাছ থেকে জেনেছে, তার বাবা বিদেশে থাকে। একদিন তারবাবা তার কাছে আসবে। বাবারফিরে আসার প্রত্যাশায় মিনুসরু ডালটির দিকে সাগ্রহেচেয়ে থাকে ।
(গ) ‘মিনু’গল্পটিতে লেখক বনফুল মিনুরজীবনের করুণ কাহিনীকে চমৎকারভাবেবর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকেরবক্তব্যটুকু ‘মিনু’গল্পের মিনু চরিত্রটির সাথেসম্পূর্ণভাবে মিলে না ।মিনু তার পিসির বাসায়আশ্রিত ছিল এবং সেখানেতাকে গৃহপারচারিকার কাজ করতে হতো। মিনুর সাথেখারাপ ব্যবহার কেউ করত এইরকম কোনোকিছু গল্পে উল্লেখ নেইতবে যেভাবে সে কাজকরত তার বর্ণনায় অমানুষিকপরিশ্রমের উল্লেখ পাওয়া যায়। শারীরিক ওমানসিক অত্যাচার তার ওপর করাহয় নি। এছাড়াতহার পিসি ও পিসেমশায় তাকে কখনো আদর-¯েœহ করেছেএমন কথা আমরা গল্পেরকোথাওা দেখতে পাই নি। একটিদশ বছরের মেয়ের অনাদরঅবহেলায় তার মনের অবস্থাকী হতে পারে তাকার বুঝতে বাকি থাকেনা যার জন্য তাকেকরুণ পরিণতি বরণ করতেহয়েছেল ।
(ঘ) মিনু দশ বছরেরমেয়ে । শিশুবয়সে মা বাবাকে হারিয়েনিঃস্ব হয়ে পিসি আরপিসে মশায়ের আশ্রয়ে দিনাতিপাতকরতে লাগল । এখানেনেই কোনো আদর, নেইকোনো ভালোবাসা । অনাদারঅবহেলায় জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ। সূর্য উদগয়েরপূর্ব থেকে সূর্যাস্তপর্যন্ত পিসিমারঘরসংসারের কাজকর্ম নিয়ে তাকে ব্যস্তথাকতে হয়েছে। অবসরকী জিনিস সে বুঝেনি। পিসিরকাছে শুনেছে তার বাবাবিদেশে আছে। কোনোএকদিন তার কাছে ফিরেআসবে। পিসিরমনভুলানো কথায় বিশ্বাস করেপ্রতি মুহূর্তে প্রতিক্ষণ অপেক্ষায় থাকে পিতার ফিরেআসার দিনক্ষণের জন্য । একটিদশ বছরের মেয়ের মনেরমধ্যে পিতৃ¯েœহের আকাক্সক্ষা, সংসারের অমানুষিক কাজকর্ম, নিজের আত্মীয়-স্বজন, পিতামাতার আদর-¯েœহথেকে বঞ্চিত হয়ে মিনুধীরে ধীরে করুণ পরিণতিরদিকে এগিযে যায় ।যদি তার পিসি ওপিসে মশায় এতটুকু আদর-যতœ করত তাহলেহয়তো তার এ পরিণতিহতো না । সেজন্যউক্তিটি যথার্থ ।
প্রশ্ন: ০৪:
“মৌমাছি, মৌমাছি
কোথা যাও নাচি নাচি
দাঁড়াওনা একবার ভাই।
ওই ফুল ফোটে বনে
ঐাই মধু আহরণে
দাঁড়াবারসময় তো নাই।”
(ক) মিনু কাদের উপরহাতুড়ি চালিয়ে তৃপ্ত হয়?
(খ) ‘শানু’শব্দটি দ্বারা কী বোজানোহয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের মৌমাছির মাঝে ‘মিনু’ গল্পেরমিনু চরিত্রের কোন দিকটি ফুটেউঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “মিনু’গল্পের মিনু এবং উদ্দীপকেরমৌমাছি উভয়েই অত্রন্ত পরিশ্রমীহলেও পরিশ্রম করার কারণে দুয়েরমাঝে ভিন্নতা আছে। মন্তব্যটিবিশ্লেষণ কর।
প্রশ্নেরউত্তর
(ক) মিনু তার শত্রুকয়লাগুলোর উপর হাতুড়ি চালিয়েতৃপ্ত হয় ।
(খ) শানু শব্দটি দ্বারাকয়লা ভাঙ্গার পাথরকে বোঝানো হয়েছে। মিনুপ্রত্যেক দিন গৃহপরিচারিকার কাজকরার জন্য অনেক ভোরবেলায়ঘুম থেকে ওঠে ।দিনের প্রথম কাজ হিসেবেচুলা ধরানোর জন্য জ্বালানিকয়লা ভাঙার কাজ শুরুকওে সে । কয়লাগুলোরকসে তার শত্রু মনেমনে করে পাথরের উপররেখে প্রচন্ড আঘাতে তা ভাঙতেথাকে । এপাথরটি শানের মতো শক্ত। এদিকেই মিনুনাম দেয় শানু।
(গ) উদ্দীপকের মৌমাছির মাঝে ‘মিনু’ৎগল্পের মিনু চরিত্রের পরিশ্রমেরদিকটি ফুটে উঠেছে ।নিজের কাজ নিজে করারমাঝে আনন্দ আছে।এতে অসম্মানিত হওয়ার কিছু থাকেনা। বরংআরও বেশি আনন্দ হয়। এভাবে কাজকরলে মানসিক প্রশান্তি আসে।
উদ্দীপকেবর্ণিত হয়েছে পরিশ্রমী ওউপকারী মৌমাছির কথা । তারাদিন-রাত নিরলস পরিশ্রমকরে মধু আহরণ করে। এতেই বড়বেশি আনন্দিত হয় । ‘মিনুতার দুরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে দিনরাত অক্লান্তভাবেগুহপরিচারিকার কাজ করে।এ কাজের মাধ্যমে আনন্দখুঁজে উদ্দীপকের মৌমাছি এবং ‘মিনু’গল্পের মিনু উভয়েই ক্লান্তিহীনতায়দিন-রাত পরিশ্রম কওেসময় কাটায় ।
“মিনু’গল্পের মিনু এবং উদ্দীপকেররমৌমাছি উভয়েই অত্যন্ত পরিশ্রমীহলেও পরিশ্রম করার কারণে দুয়েরমাঝে ভিন্নতা আছে।”মন্তব্যটিযৌক্তিক ।
কঠিন সংগ্রামে যা কিছু অর্জিতহয় তার ফল হয়অনেক বেশি ভালো লাগারও আনন্দেও । কেউভালো লাগা থেকে পরিশ্রমকরে দিন-রাত , আবারকাউকে বাধ্য করা হয়পরিশ্রম করতে । তবেপরিশ্রমের আনন্দ চিরন্তন ।
উদ্দীপকেবর্ণিত মৌমাছি ফুল থেকেমধু আহরণ করতে নিজেকেদিন-রাত ব্যস্ত রাখে। এভাবেমধু সংগ্রহ করার মাঝেইএরা জীবনের আনন্দ খুঁজেপায় ফলে সব ক্লান্তিও কষ্ট তুচ্ছ করেমৌমাছি এভাবে মধু সংগ্রহকরাকে জীবনের দায়িত্ব হিসেবেমেনে নেয় । মিনুগল্পের মিনু অসহায় অবস্থায়আশ্রিত হয় তার দূরসম্পর্কেওএক পিসিমার বাড়িতে । কাজেরলোক হিসেবে তাকে সারাদিনগৃহের সব কাজ অক্লান্তভাবেকরতে হয় কাজের মানখারাপ হলে তার উপরনেমে আসতে পাওে শারীরিকও মানসিক অত্যাচার ।এসব ভেবে সে দায়িত্বেওসাথে কাজ করে।উদ্দীপকের মৌাছি মনের আনন্দেদিন-রাত পরিশ্রম করেগৃহকর্তা-কর্ত্রীর বকা-ঝকা থেকেবাঁচার জন্য । এখানেমিনুর দায়িত্বশীলতার পরিচয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অতএবমন্তব্যটি যৌক্তিক।
প্রশ্ন-৫:
কামালসাহেরব নির্ভেজাল মানুষ । অফিসেনিজের মত এসে কাজকওে বাসায় চলে যান। অচবসরপেলে নিজের পকেটের কলমবের কওে তার সাথেকথা বলেন, “আহা, তোমাকেকী –না কষ্ট দেইআমি। এতকালি খরচ, এত লেখা, এত সাইন, জানি তোমারঅনেক কষ্ট । কিন্তুতিনি তাও লেখা থামতেপারেন না । তাইকলমকে বোঝান এ জগৎবড়ইবৈচিত্র্যময়, সবাই সুখ পেতেব্যাকুল । ভোগকরতে চায়, ত্যাগ করতেনয় ।
(ক) মিনুর বাবা কবেমারা গেছেন?
(খ) মিনু মনে মনেবলেÑএই ঠিক সময়েইউঠেছে দেখছি”ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের কামাল সাহেবের কলমেরসাথে মিনুর থালাবাসনের সাদৃশ্যউল্লেখ কর।
(ঘ) ‘মিনুর এবং কামালসাহেবের কর্মক্ষেত্র আলাদা হলেও চিন্তাচেতনায় দুজনের অভিন্œতারয়েছে’-মূল্যায়ন কর।
প্রশ্নেরউত্তর :
(ক) মিনুর বাবা তারজন্মের আগেই মারা গেছেন।
(খ) মিনু ভোরবেলা ঘুমথেকে উঠে আকাশে শুকতারাদেখে আলোচ্য কথাটি বলেউঠে ।
ডমনু বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীহলেও মনে মনে আলাদাএকটি অগৎ তৈরি করেছেসে । সেভোর চারটায় ঘুম থেকেউঠে পূব আকাশে দপদপ কওে জ্বলা শুকতারাকেদেখে ভাবে, শুকতারাও তারইমতো আকাশের পিসেমশায়ের উনুনধরানোর জন্য জেগে উঠেছে। তাইমিনু তার সঙ্গে মিলথাকার জন্য শুকতারাকে দেখেতাই মনে মনে বলেওঠে , সহ ঠিক সময়েইউঠেছ দেখি ।
(গ) মিনুর রান্নাঘরের থালাবাসনগুলোরপ্রতি যে ভালোবাসা, কামালসাহেবের তার কলমের প্রতিওএকই ভালোবাসা লক্ষ করা যায়।
ডমনু মা-বাবামরা বাকও শ্রবণপ্রতিবন্ধী একটি মেয়ে ।কিন্তু নিজে নিজে সেএকটি অভিনব জগৎ সৃষিকওে চলেছে। আকাশেরশুকতারা তার সই আবারতার রান্নাঘরের বাসনগুলোও তার বন্ধু ।প্রতিটি জিনিসের আলাদা আলাদা নামদিয়েছে মিনু । পুটিনামেরা আদরের ঘটিটা একদিনতার হাত থেকে পড়েতুবড়ে যায় । এতেমিনু অনেক কান্নাকাটি কওেএাবং তোবড়ানো স্থানে প্রতিদিন সেহাত বুলিয়ে আদও কওেদেয় ।
উদ্দীপকেরকামাল সোহেব মিনুর মতোসহজ-সরল ও নির্ভেজালএকজন মানুষ । অফিসেতিনি সারা দিন কলমদিয়ে কাজ করলেও কলমেরপ্রতি তার এক ধরনেরমায়া কাজ করে।তিনি ভাবেন, সারাদিন কাজেরসময় ব্যস্ত রেখে কলমকেতিনি অনেক কষ্ট দেন। তাইঅবসর পেলেই তিনি কলমেরসঙ্গে কথা বলে তারকষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেন। পারতপক্ষেতিনি তার ব্যবহৃত কলমকেমিনু যেভাবে তার থালা-বাসনরেক ভালোবাসে, তেমনই ভালোবাসেন।কাজেই ভালোবাসার দিক থেকে উদ্দীপকেরকামাল সাহেবের কলমের সাথে মিনুরথালা-বাসনের সাদৃশ্য রয়েছে।
(ঘ) মিনু এবং কামালসাহেব দুজনই সহজ ওঅত্যন্ত নির্ভেজাল মনের মানুষ ।
‘মিনু’গল্পের মিনু শ্রবণ ওবাকপ্রতিবন্ধী বাবা-মা মরাএতিম অসহায় এক শিশু। মিনুর আপনবলতে কেউ নেই বলেপিসেমশায়ের বাড়িতে থাকে এবংবাড়ির প্রতিটি কাজ অত্যন্ত মনোযোগও যত্বেও সঙ্গে সেসম্পাদন করে। তারকর্মনিষ্ঠা এককথায় অতুলনীয় ।মনে মনে আলাদা একটিঅভিনব জগৎ তৈরি করেছেমিনু। সেইজগতে প্রকৃতির জড় পদার্থগুলোর সঙ্গেসে তৈরি কওে নিয়েছেএকটি হৃদ্যতার্পূর্ণ সম্পর্ক । শুকতারাকেসে তার সই ভাবেআর রান্নাঘরের প্রতিটি বানপত্র তার বন্ধু ।মূলত সহজ-সরল মনেরঅধিকারী বলে মিনু জড়বস্তুওসঙ্গে এরকম একটি প্রাণবন্তসম্পর্কেও জগৎ তৈরি কওেনিতে পেরেছে।
উদ্দীপকেরকামাল সাহেব একটি অফিসেকাজ করেন । তিনিসারা দিন অফিসের কাজেকলম ব্যবহার করেন। কিন্তুকলমের প্রতি ভীষণ মায়াতার । তিনিভাবেন, সারাদিন কাজ করিয়ে কলমটিকেতিনি কষ্ট দেন ।তাই অবসর পেলে কলমেরসাথে সুখ-দুঃখের কথাবলা শুরু করেন তিনি। উদ্দীপকেরকামাল সাহেবের কর্মক্ষেত্র আলাদা হলেও চিন্তচেতনারদিক দিয়ে তাদের মধ্যেকোনো ভিন্নতা নেই ।

Post a Comment